ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমল ও দোয়া সমূহ
রাতে ঘুমানো আমাদের অতি প্রয়োজন তবে ঘুমানোর আগে আমাদের বেশ কিছু আমল ও দোয়া রয়েছে এ সকল আমল ও দোয়া সমূহ করে ঘুমালে বিশ্রামের পাশাপাশি মন ও আত্মার শান্তি লাভ হয়ে থাকে। আমাদের প্রিয় নবী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুমানোর আগে বেশ কিছু আমল শিক্ষা দান করেছেন যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শান্তি ও ঈমানি শক্তি আনে।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
সুন্নতগুলো পালন করা আমাদের ঘুমকে ইবাদত ও ইবাদতের সমতুল্য
করতে পারি। ঘুমানোর আগে ইবাদত গুলো তুলে ধরা হলো।
সূচিপত্রঃ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমল ও দোয়া সমূহ
- রাতে ব্যবহার্য থালা-বাসন হাড়ি পাতিল ঢেকে রাখা ও বাতি নিভিয়ে দেয়া
- মেসওয়াক ও অজু করা
- রাতে ঘুমানোর পূর্বে বিশেষ কয়েকটি দোয়া পড়া
- সূরা ফাতিহা সূরা ইখলাস সূরা কাফিরুন সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়া
- আয়াতুল কুরসি পড়া
- ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ,৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া
- সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া
- সূরা সাজদাহ ও সুরা মুলক তিলাওয়াত করা
- ইস্তেগফার ও ক্ষমা প্রার্থনা করো
- ডান কাত হয়ে ঘুমানো
- লেখকের মন্তব্য
রাতে ব্যবহার্য থালা-বাসন হাড়ি পাতিল ঢেকে রাখা ও বাতি নিভিয়ে দেয়া
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন সন্ধ্যা হওয়ার পর
বাড়ির ছোট শিশুদের ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে নিতে হবে কেননা সে সময় শয়তানদের
ছাড়া হয়। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর শিশুদের ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়ে
বিসমিল্লাহ বলে দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। ঘরের ব্যবহার্য
জিনিসপত্র যেমন খাবারের আল-বাসন হাড়ি পাতিল এগুলো বিসমিল্লাহ বলে ঢেকে
রাখতে হবে। রাতের খাওয়ার শেষ হবার পর অবশিষ্ট খাবার গুলো ঢেকে রাখতে হবে
এখন এবং ব্যবহার কৃত থালা বাসন হাড়ি পাতিল নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে
রাতে শোবার সময় ঘরের সকল বাতি নিভিয়ে দিতে হবে।
মেসওয়াক ও অযু করা
রাতে ঘুমানোর আগে মেসওয়াক করা সুন্নত আমাদের বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ সময়
পেলে মেসওয়াক করতেন মেসওয়াক করলে শরীর ও মন দুটি ভালো থাকে মেসওয়াক করলে
ফুসফুস ভালো থাকে রাতে মেসওয়াক করে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে সালাতের ন্যায় অজু করে
ডান কাত হয়ে শয়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় দোয়া সমূহ পাঠ করে ঘুমিয়ে পড়বে।
যে ব্যক্তি ওযু অবস্থায় আমল করে ঘুমাবে তার জন্য একজন ফেরেশতা পাহারা দিয়ে
এবং সেই ব্যক্তি সকালে ঘুম থেকে উঠলে সেই নিযুক্ত ফেরেশতা আল্লাহর নিকট তার
জন্য দোয়া করবেন এবং আল্লাহর কাছে তার সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়ার জন্য ফরিয়াদ
করবে কেননা , তিনি পবিত্র অবস্থায় ঘুমিয়ে ছেন।
রাতে ঘুমানোর পূর্বে বিশেষ কয়েকটি দোয়া পড়া
দোয়া ১
উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইহা।
অর্থঃ হে আল্লাহ আপনার নামে ঘুমাতে যাচ্ছি আবার আপনার নাম নিয়ে
জীবিত হব।
দোয়া ২
উচ্চারণ-আল্লাহুম্মা ক্বিনী আযাবাকা ইয়াওমা তা আসু ইবাদাক।
অর্থঃ হে আল্লাহ আপনি আপনার বান্দাদের পুনরায় জীবিত করবেন, সেদিন আপনার
শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করুন।
দোয়া ৩
উচ্চারণ- আলহামদু লিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন
নুশুর।
অর্থঃ সব প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান
করেছেন এবং তার দিকেই আমাদের পুনরুত্থান।
সূরা ফাতিহা সূরা ইখলাস সূরা কাফিরুন সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাড়া
সূরা ফাতিহা
বাংলা উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বীল আলামিন। আর রাহমানির রাহীম। মা-লিকী ইয়াউমিদ্দ্বীন।
ইয়্যাকা-নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতায়ীন। ইহদিনাস-সিরাতাল মুসতাক্কীম সিরাত্বাল
লাযিনা আন-আমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম। অয়ালাদ্দুয়াল্লীন আমিন।
সূরা ইখলাস
বাংলা উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
কুলহু আল্লাহু আহাদ । আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম
ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।
সূরা কাফিরুন
বাংলা উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
কুলা ইয়া- আই- ইউহাল কাফিরুন । লা`আ`বুদু মা তা`বুদুন। ওয়ালা আন-তুম আবিদুনা
মা`আ`বুদ।অলা আনা আ`বিদুম্মা আ`বাওুম। ওয়ালা আন-তুম আবিদুনা মা`আ`বুদ। লাকুম
দি-নুকুম অল ইয়াদিন।
সূরা ফালাক
বাংলা উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। মিং শাররি মা-খলাক্ব। ওয়া মিং শাররি গ-ছিক্বন ইযা
ওয়াক্বাব। ওয়া মিং শাররিন -নাফফাছাতিন ফিল্ উকাদ। ওয়া মিং শাররি হাছিদিন
ইযা হাসাদ।
সূরা নাস
বাংলা উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
কুল আউজুবি রব্বিন নাস। মালিকিন নাস। ইলাহিন নাস।মিন শাররিল ওয়াস ওয়াসিল খন
নাস। আল্লজি ইউ ওয়াস বিসু ফি ছুদুরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।
আয়াতুল কুরসি পড়া
বাংলা উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা-হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাই-য়ুম। লা তা'খুজুহু ছিনাতুম
ওয়ালা নাউম। লাহু মাফিছ ছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আদ। মাঙ জাল্লাজি ইয়াশ ফা'উ
ইংদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া'লামু-বাইনা আইদিহিম অয়ামা খালফাহুম, ইউ-হিতুনা
বিশাই ইম মিন ঈ'লমিহি ইল্লা বিমা শা...আ, ওয়াছিয়া কুরছিই ইউহুছ ছামা-ওয়াতি
ওয়াল আদ, ওয়ালা ইয়া উ-দুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিই-ইয়ুল আজিম।
৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ৩৩ আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া
রাতে ঘুমানোর আগে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ৩৩ আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার লা
ইলাহা ইল্লাল্লাহ ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বিছানায় শুয়ে থেকে ৩৩
বার সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ৩৪
বারে আল্লাহু আকবার পরে ঘুমালে ঘুমটি হবে সর্বোত্তম ঘুম।
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি রাতের
বেলায় সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ে ঘুমাবে সেটা তার জন্য যথেষ্ট
হবে।
বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে পাওয়া যায় যে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত
দুই পাঠ করে ঘুমালে শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ট হবে। কেউ
বলেছে বালা মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে । তবে সবগুলো অর্থই সঠিক
হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক তিলাওয়াত করা
সূরা সাজদাহ ও সুরা মুলক রাতে ঘুমানোর আগে তিলাওয়াত করা উত্তম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুমানোর আগে সূরা সাজদাহ
ও সূরা মুলক তিলাওয়াত না করে ঘুমাতে যেতেন না।
ইস্তেগফার ও ক্ষমা প্রার্থনা করা
রাতে ঘুমানোর আগে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে । ইস্তেগফারের
মাধ্যমে পূর্বে গুনাহ গুলো মাফ হয়ে থাকে এবং আল্লাহর থেকে রহমত নেমে
আসে ইস্তফার পাঠ করলে মনে শান্তি পাওয়া যায়। ছোট এবং উত্তম ইস্তেফাক হল
আস্তাগফিরুল্লাহ এই ছোট দোয়াটি প্রতিনিয়ত পাঠ করলে মনে প্রানে অনেক
শান্তি পাওয়া যায়।
ডান কাত হয়ে ঘুমানো
হাদিসে আছে এবং আমাদের প্রিয় নবী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম তিনি ডান কাত হয়ে ঘুমাতেন। ডান কাত ঘুমানো সুন্নত। নবীর সুন্নত
পালন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
লেখকের মন্তব্য
আল্লাহ আমাদের সকলের প্রতিদিন ছোট ছোট আমল করার তৌফিক দান করুন আমীন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url