রমজান মাসের সেহরী ও ইফতারি এবং ফজরের আজান, ২০২৬ রাজশাহী
মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচাইতে ইবাদত ও উৎসবের মাস হল রমজান মাস। পবিত্র মাহে রমজান আমাদের সকলের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। রমজান মাসটি মূলত আমাদের কাছে একটি আত্মশুদ্ধি ত্যাগ আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনেক সুযোগ রয়েছে। আমাদের সকলেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য এই মাসটিকে আল্লাহর ইবাদতে মাধ্যমে মগ্ন থাকা। আমরা এই আর্টিকালের মধ্যে দিয়ে ২০২৬ সালের রমজান মাসের সেহেরী ও ইফতারের সময়সূচী জানতে পারবো।
রমজান মাসে রোজা শুরু হয় সাধারণত চাঁদ দেখা ওপর নির্ভর করে। আর কিছুদিন পরেই শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। ২০২৬ সালের সেহরী ও ইফতারের সময়সূচি আমাদের সকলেরই জানা প্রয়োজন। তাই রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারি সময়সূচি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো
সূচিপত্রঃ রমজান মাসের সেহরী ও ইফতারি এবং ফজরের আজান, ২০২৬ রাজশাহী
- ২০২৬ সালের সেহরী ও ইফতারি এবং ফজরের আজান এর সময়সূচী
- রমজান মাসের সেহরীর দোয়া ও নিয়ত
- রমজান মাসের ইফতারের দোয়া ও নিয়ত
- ২০২৬ সালের রমজান মাসের ইবাদত
- ২০২৬ সালের রমজান মাসের গুরুত্ব
- ২০২৬ সালের রমজান মাসের ফজিলত
- ২০২৬ সালের রমজান মাসের ২০ টি আমল
- ২০২৬ সালের রমজান মাসের রোজার সুন্নত সমূহ
- ২০২৬ সালের রমজান মাসের রোজার মাখরূহ সমূহ
- রমজান মাসের রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ
- রমজান মাসে যেসব কাজে রোজা ভঙ্গ হয় না
- রমজান মাসে রোজা রাখার স্বাস্থ্য উপকারিতা ও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ
- লেখকের শেষ মন্তব্য
২০২৬ সালের সেহরি ও ইফতারি এবং ফজরের আজানের সময়সূচী
রমজান মাসের রহমতের ১০ দিন
| রমজানের তারিখ | ইংরেজি তারিখ | দিনের নাম | সেহরির শেষ সময় | ফজরের আজান | ইফতারের শেষ সময |
|---|---|---|---|---|---|
| ০১ রমজান | ১৯ ফেব্রুয়ারী | বৃহস্পতিবা | ০৫-১৮ | ০৫-২২ | ০৬-০৪ |
| ০২ রমজান | ২০ ফেব্রুয়ারী | শুক্রবার | ০৫-১৮ | ০৫-২১ | ০৬-০৫ |
| ০৩ রমজান | ২১ ফেব্রুয়ারী | শনিবার | ০৫-১৭ | ০৫-২১ | ০৬-০৫ |
| ০৪ রমজান | ২২ ফেব্রুয়ারী | রবিবার | ০৫-১৬ | ০৫-২০ | ০৬-০৬ |
| ০৫ রমজান | ২৩ ফেব্রুয়ারী | সোমবার | ০৫-১৬ | ০৫-১৯ | ০৬-০৬ |
| ০৬ রমজান | ২৪ ফেব্রুয়ারী | মঙ্গলবার | ০৫-১৫ | ০৫-১৮ | ০৬-০৭ |
| ০৭ রমজান | ২৫ ফেব্রুয়ারী | বুধবার | ০৫-১৪ | ০৫-১৮ | ০৬-০৭ |
| ০৮ রমজান | ২৬ ফেব্রুয়ারী | বৃহস্পতিবার | ০৫-১৩ | ০৫-১৭ | ০৬-০৮ |
| ০৯ রমজান | ২৭ ফেব্রুয়ারী | শুক্রবার | ০৫-১২ | ০৫-১৬ | ০৬-০৮ |
| ১০ রমজান | ২৮ ফেব্রুয়ারী | শনিবার | ০৫-১২ | ০৫-১৫ | ০৬-০৯ |
রমজান মাসের মাগফিরাতের ১০ দিন
| রমজানের তারিখ | ইংরেজি তারিখ | দিনের নাম | সেহরির শেষ সময় | ফজরের আজান | ইফতারের শেষ সময |
|---|---|---|---|---|---|
| ১১ রমজান | ০১ মার্চ | রবিবার | ০৫-১১ | ০৫-১৪ | ০৬-০৯ |
| ১২ রমজান | ০২ মার্চ | সোমবার | ০৫-১০ | ০৫-১৩ | ০৬-১০ |
| ১৩ রমজান | ০৩ মার্চ | মঙ্গলবার | ০৫-০৯ | ০৫-১৩ | ০৬-১০ |
| ১৪ রমজান | ০৪ মার্চ | বুধবার | ০৫-০৮ | ০৫-১২ | ০৬-১১ |
| ১৫ রমজান | ০৫ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ০৫-০৭ | ০৫-১১ | ০৬-১১ |
| ১৬ রমজান | ০৬ মার্চ | শুক্রবার | ০৫-০৬ | ০৫-১০ | ০৬-১২ |
| ১৭ রমজান | ০৭ মার্চ | শনিবার | ০৫-০৫ | ০৫-০৯ | ০৬-১২ |
| ১৮ রমজান | ০৮ মার্চ | রবিবার | ০৫-০৪ | ০৫-০৮ | ০৬-১৩ |
| ১৯ রমজান | ০৯ মার্চ | সোমবার | ০৫-০৩ | ০৫-০৭ | ০৬-১৩ |
| ২০ রমজান | ১০ মার্চ | মঙ্গলবার | ০৫-০৩ | ০৫-০৬ | ০৬-১৪ |
রমজান মাসের নাজায়েতের ১০ দিন
| রমজানের তারিখ | ইংরেজি তারিখ | দিনের নাম | সেহরির শেষ সময় | ফজরের আজান | ইফতারের শেষ সময |
|---|---|---|---|---|---|
| ২১ রমজান | ১১ মার্চ | বুধবার | ০৫-০২ | ০৫-০৫ | ০৬-১৪ |
| ২২ রমজান | ১২ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ০৫-০১ | ০৫-০৪ | ০৬-১৫ |
| ২৩ রমজান | ১৩ মার্চ | শুক্রবার | ০৫-০০ | ০৫-০৩ | ০৬-১৫ |
| ২৪ রমজান | ১৪ মার্চ | শনিবার | ০৪-৫৯ | ০৫-০২ | ০৬-১৬ |
| ২৫ রমজান | ১৫ মার্চ | রবিবার | ০৪-৫৮ | ০৫-০১ | ০৬-১৬ |
| ২৬ রমজান | ১৬ মার্চ | সোমবার | ০৪-৫৭ | ০৫-০০ | ০৬-১৬ |
| ২৭ রমজান | ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | ০৪-৫৫ | ০৪-৫৯ | ০৬-১৭ |
| ২৮ রমজান | ১৮ মার্চ | বুধবার | ০৪-৫৪ | ০৪-৫৮ | ০৬-১৭ |
| ২৯ রমজান | ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ০৪-৫৩ | ০৪-৫৭ | ০৬-১৮ |
| ৩০ রমজান | ২০ মার্চ | শুক্রবার | ০৪-৫২ | ০৪-৫৬ | ০৬-১৮ |
রমজান মাসের সেহেরির দোয়া ও নিয়ত
আজ আলোচনা করব রমজান মাসের সেহরির দোয়া ও নিয়ত নিয়ে । রমজানে আমাদের কাছে একটি
গুরুত্বপূর্ণ মাস সাধারণত এই মাসে আমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত পালন করার জন্য
রোজা রাখি। রোজা রাখার জন্য আমাদেরকে রাত্রে সেহরি করতে হয় সেহরি করার পর আমরা
নিয়ত না করে ঘুমিয়ে পড়ি তাই অবশ্যই দোয়া ও নিয়ত করা অবশ্যই আমাদের
কর্তব্য।
উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়ান আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাদ্বানাল মুবারকি
ফারদ্বান্নাকা ইয়া আল্লাহ ফাতাক্কাব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসে তোমার পক্ষ হতে নির্ধারিত ফরজ
রোজা পালন করার নিয়ত করলাম,অতএব তুমি আমাকে সকল ধরনের পানাহার থেকে বিরত
রাখুন এবং আমার রোজা কবুল করুন।
রমজান মাসের সেহরির দোয়া ও নিয়ত
রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর সেহরির জন্য আমরা প্রস্তুত নেই এবং আল্লাহর নামে
সেহরি খেয়ে থাকি। সেহরি খাওয়ার পর রোজা রাখার জন্য সেহরির নিয়ত করতে হয় তা
নিচে দেওয়া হল।
উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদায় মিন শাহরি রমাদ্বানাল মুবারকি ফারদ্বন্নাকা
ইয়া আল্লাহ ফাতাক্ব্বাব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলীম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আজ পবিত্র রমজান মাসের তোমার পক্ষ হতে ফরজ রোজা পালন করার
জন্য নিয়ত করলাম, তুমি আমাকে সকল ধরনের পানাহার থেকে বিরত রাখুন এবং রোজা রুবেল
রোজা কবুল করুন।
রমজান মাসের ইফতারের দোয়া ও নিয়ত
রোজার মাসে আমরা সারাদিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যার সময় মাগরিবের আযানের পর ইফতারের
জন্য রোজা ভঙ্গ করতে হয়। রোজা ভঙ্গের সময় ইফতারের কিছু দোয়া ও নিয়ত রয়েছে তা
পড়তে হয়।
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ'লা রিযক্কিকা আফত্বারতু।
অর্থ আল্লাহর নামে শুরু করছি হে আল্লাহ আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং
তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতারির করছি।
ইফতারের সময় যে দোয়া পড়তে হয়-
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা লাকা চুমু ওয়া আলা রিযক্কিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা
ইয়া আরহামার রাহিমীন।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি তোমার দেওয়া রিজিক
দ্বারা ইফতার করছি।
ইফতারের পরে যে দোয়া পড়তে হয় -
উচ্চারণঃ জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ'রুকু;ওয়া ছাবাতালআঝরূ ইনশাআল্লাহ।
অর্থঃ ইফতারের মধ্যে দিয়ে পিপাসা দূর হলো শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং
যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হল।
২০২৬ সালের রমজান মাসের ইবাদত
রমজান মাসের ইবাদত অনেক বেশি আমরা যে যতটুকু পারি সেই অনুপাতে ইবাদত করে থাকি।
রমজান মাসের তথ্য ফজিলত বহু হাদিসে ও বিশ্লেষণ করে আল কুরআনের রমজান মাসের ইবাদত
ও ফজিলত সম্বন্ধে বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়। পবিত্র রমজান মাসটি আরবি মাসের ৯
নম্বর মাস। এ মাসের ফজিলত মর্যাদা দিক দিয়ে পবিত্র রমজান মাস বছরে শ্রেষ্ঠ মাস
বলা হয়। এই মাসটিতে মহান আল্লাহতালা খাস এবং সর্বাধিক ফজিলত দান করেছেন। আরবি
মাসের অন্য মাসের তুলনায় এই মাসের ইবাদত ৭০ গুণ বেশি পাওয়া যায়। তাই হয়তো
রমজান মাসের ফজিলত বিভিন্ন হাদিসে অসংখ্য বর্ণনা পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের রমজান মাসের গুরুত্ব
পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যয় সম্বন্ধে ইসলামী ধর্মবলম্বী মানুষজনেরা
সকলেই তা জানে। এ রমজান মাসের সম্বন্ধে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা রয়েছে যা
অনেকেরই জানা নাও থাকতে পারে। ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভের মধ্যে যাকাতের পর
রোজার স্থান রয়েছে। রোজা হিসেবে এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। রমজান মাসের রোজা
দ্বারা অভ্যাস অবলম্বে দুঃখ ও নিম্ন মানুষদের খোদার কষ্ট অনুভবের সুযোগ পাওয়া
যায়।
গরিব মানুষজনের প্রতি করোনা এবং দয়া মমতা সৃষ্টি দানশীলতা উপকার করার আগ্রহ
সৃষ্টি হয়। এছাড়াও রোজাদার মানুষের সংযম ধৈর্য গুণ এবং স্বাস্থ্যগত উপকারিতা
হয়।
২০২৬ সালের রমজান মাসের ফজিলত
পবিত্র রমজান মাসের দূরত্ব তারপর্য্য ফজিলত বলে শেষ করার সম্ভব নয়। আল্লাহতালা
কোরআন শরীফে বলেছেন রমজান মাসে এমন একটি মহিমা ময় গৌরব মন্ডিত মাস যে মাসে
আল্লাহ পাক ক্রমজিত নাযিল করেছেন। কুরআন মাজীদ হলো বাকি ১০৪ খানা কিতাবের মধ্যে
সবচেয়ে উত্তম কিতাব। জীবন ব্যবস্থার অপরিবর্তনীয় বিধান গ্রহণ আল কোরআন রমজান
মাসের নাযিল হয়েছে।
এ রমজান মাসের বিশেষ ফজিলতের কথা প্রমাণ করে রমজান মাসে কোরআন অবতরণ করা হয়েছে।
এই কিতাবটি আমাদের বিশ্বনবী পেয়ারা নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর কাছে অভিরূপে
প্রেরণ করা হয়।
২০২৬ সালের রমজান মাসে ২০টি আমল
রমজান মাস হল আমল করার মাস। রমজান মাস হল মানুষ পরিবর্তন এর মাস। রমজান মাস হল
মুসলমানদের বেশি বেশি আমল করার মাস। নিচে সংক্ষেপে ২০টি আমল সম্পর্কে তুলে
ধরা হলো। যা আপনাদের রমজান মাসে কাজে আসতে পারে।
- সিয়াম পালন করা
- সময় মত সালাত আদায় করা
- শহীহ ভাবে কোরআন পড়া
- অপরকে কোরআন পড়া শেখানো
- সেহরি খাওয়া
- মেসওয়াক করা
- ইফতারি করা
- তারাবি নামাজ পড়া
- শুকরিয়া আদায় করা
- তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া
- বেশি বেশি দান করা
- সম্ভব হলো ইত্তেকাফ করা
- সম্ভব হলে সামর্থ্য থাকলে ওমরা পালন করা
- লাইলাতুল কদর তালাশ করা
- আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া ও কান্নাকাটি করা
- আত্মীয়দের মাঝে সম্পর্কে উন্নতি করা
- আল্লাহর জিকির করা
- নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া
- সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতারি বিতরণ করা
- কল্যাণকর কাজ বেশি করা
উপরিক্ত আমলগুলো রমজান মাসে বেশি বেশি করা যায় তাহলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই
ব্যক্তির উপর সন্তুষ্ট হবেন। তাই আমরা রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্ট লাভের
জন্য এই কাজগুলো বেশি বেশি করে থাকবো।
২০২৬ সালের রমজান মাসের রোজার সুন্নত সমূহ
রমজান মাসের সুন্নত সমূহ অনেক তার মধ্যে কিছু প্রয়োজনীয় সুন্নত সমূহ রয়েছে।
যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। নিম্ন সনদ সময় গুলো দেওয়া
হল
- সর্বদাই নেক কাজ করা
- গরীব দুঃখী মানুষের কে সাহায্য করা
- এলাকার মসজিদ মাদ্রাসায় দান করা
- সময় মতন সেহরি খাওয়া
- সময় মতন ইফতারি করা
- রমজান মাসে ইত্তেফাক করা
- তারাবির নামাজের মাধ্যমে দিয়ে কোরআন শরীফ খতম কাবা শোনা
- মতো থাকলে পারে প্রতিদিন এলাকার গরীব দুঃখী মানুষদের ইফতারি করানো
- বেশি বেশি দান করা
২০২৬ সালের রমজান মাসের রোজার মাখরূহ সমূহ
রমজান মাসের মাকরুহ সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো
- রমজান মাসে রোজা পালানো অবস্থায় মিথ্যা বলা বা গীবত করলে রোজা মাখরূহ হয়ে যায়।
- রোজা অবস্থায় মন্দ বা খারাপ বাক্য বা কথা বললে রোজা মাখরূহ হয়ে যায়।
- রমজান মাসে রোজা রেখে একেবারে চুপচাপ বসে থাকলে রোজা মাখরূহ হয়ে যায়।
- রমজান মাসে অন্য স্ত্রী বা কোন মহিলার প্রতি কুদৃষ্টি দিলে রোজা মাখরূহ হয়ে যায়।
- ভেজা কাপুর শরীরে জড়িয়ে রাখলে রোজা মাকরুহ হয়ে যাই।
রমজান মাসের রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ
রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ অনেক রয়েছে নিম্ন কিছু রোজা ভঙ্গের কারণসহ নিয়ে আলোচনা
করা হলো।
- রোজা অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে রোজা ভেঙ্গে যায়
- ভুলবশত পানাহার করে ফেললে তা মনে পড়ে গেলে ও পালাহার করলে রোজা ভেঙ্গে যাই।
- অচেতন পানাহার করলে রোজা ভেঙে যায়।
- ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ সেবন করলে রোজা ভেঙ্গে যায়।
- রাত্রে সেহরি খাওয়ার পর দাতে অপ্রয়োজনীয় খাদ্য পুনরায় গিলে খেলে রোজা ভেঙে যায়।
- কুলি করার সময় পানি গিলে খেলে রোজা ভেঙে যায়
- মুখের থুতু বের করে পুনরায় গিলে খেলে রোজা ভেঙে যায় ।
রমজান মাসে যে সব কাজের রোজা ভঙ্গ হয় না
- রোজা রাখা অবস্থায় ভুল করে খাবার খেয়ে নিলে এবং তা মুখে থাকা অবস্থায় ফেলে দিলে এবং কলি করে নিলে রোজা ভঙ্গ হয় না।
- গায়ে তেল মালিশ করলে রোজা ভাঙ্গা হয় না ।
- সামান্য পরিমাণ বমি হলে রোজা ভঙ্গ হয় না।
- নাক বা কান দিয়ে পানি ঢুকলে রোজা ভঙ্গ হয় না।
- আতর লুকান আগরবাতি প্রকৃতির সুভাষ গ্রহণ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না।
- স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙ্গা হয় না
- চোখের মধ্যে সুরমা লাগালেও রোজা ভাঙ্গা হয় না।
রমজান মাসে রোজা রাখার স্বাস্থ্য উপকারিতা ও বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ
রমজান মাসে রোজা রাখলে পরে শুধু মাত্র ধর্মীয় ইবাদত হয় না বরং এটি একটি
বিজ্ঞানসম্মত শরীর চর্চা যা শরীর চর্বি কমে ইনসুলিন সংবিধানশীল বৃদ্ধি এবং
মেটাবলিক স্বাস্থ্য উন্নতি ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে রমজান মাসে শরীর থেকে
টক্সিন দূর করে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে রক্ত আত্মা সঞ্জীবন ও ধৈর্য বৃদ্ধিতেও
ভূমিকা রাখে। রমজান মাসে রোজা রাখার স্বাস্থ্য উপকারিতা- বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ করা
হলো:
- ওজন নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি হ্রাস নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃদরোগের ঝুকি কামাই
- রক্তের শর্করার নিয়ন্ত্রণ করে ।
- ডি-টক্সিফিকেশন ও হজম তন্ত্রের বিশ্রাম ঘটায়।
- অটোফেজি বা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়
- মানসিক স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্ক সচল রাখে ।
- মস্তিষ্কের চাপ কমানোর হরমোন নিরাশন করে।
- শারীরিক্য মানসিক সুফল পাওয়া যায়।
লেখকের শেষ মন্তব্য
২০২৬ সালের রমজান মাসের ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়েছে এবং রমজান মাসের ইবাদত গুরুত্ব
আমল ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এবং সাথে রমজান মাসের সেহরি ও
ইফতারের নিয়ত ও দোয়া সমূহ দেওয়া হয়েছে। তাই বলা যায় যে রমজান মাসে অবশ্যই
আপনাকে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে। শুধু হওয়ার আগেই রমজানের প্রস্তুতি
নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি রমজান মাসে আমাদের সকলের সঠিক পথে এবং সম্পন্ন
রমজান মাস ইবাদতের মাস হিসেবে পরিচালিত করতে পারি এবং ৩০ টি রং রোজা রাখতে পারি
আল্লাহতালা আমাদের হেদায়েত দিক আমিন।
প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
আপনি যদি একজন প্রকৃত মুসলিম হয়ে থাকেন এবং এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিতে
জানতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো দিয়ে রাখুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url